বাংলাদেশে অনেক ব্যান্ডের রাইস কুকার পাওয়া যায় সেগুলো মডেল ধারণক্ষমতা এবং কোয়ালিটি অনুযায়ী বিভিন্ন দাম হয়ে থাকে। বর্তমানে বেশিরভাগ মা-বোনেরা রান্নার কাজে রাইস কুকার ব্যবহার করে থাকেন। আজকে আপনাদের জানাবো বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রাইস কুকারের দাম।
দাম গুলো দেখার পরে আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী যেকোনো একটি পছন্দ করে কিনতে পারেন। আর আগে থেকে দাম জেনে রাখলে কেনার সময় ঠকার সম্ভাবনা থাকে না। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক সকল রাইস কুকারের দাম।
রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশের রাইস কুকারের দাম বিভিন্ন ব্র্যান্ড, সাইজ বা আকার, ধারণ ক্ষমতা, মডেল এবং বিভিন্ন ফিচার অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে একটি রাইস কুকারের দাম সর্বনিম্ন ১২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ বা তার বেশি টাকাও হতে পারে।
তবে ভালো ব্র্যান্ডের রাইস কুকারের দাম বেশি হয়ে থাকে কারণ এগুলো সব দিক দিয়ে ভালো। যদি আপনার বাজে বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনি ভালো ফিচার রয়েছে এরকম রাইস কুকারনিতে পারবেন। আর যদি বাজেট তুলনামূলক কম হয় তাহলে একটু নরমাল টাইপের নিতে পারবেন।
কিয়াম রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশের অনেকের পছন্দের একটি রাইস কুকার হল কিয়াম রাইস কুকার। এই ব্র্যান্ডের রাইস কুকারের দাম ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। নিচে কিছু কিয়াম রাইস কুকার এর দাম লিস্ট দেওয়া হলো:
| নাম/মডেল/লিটার | দাম |
|---|---|
| Kiam Rice Cooker 1.8L SJB-602 | 2,580 Tk |
| Kiam Rice Cooker 1.8L SFB-5702 | 2,500 Tk |
| Kiam Rice Cooker 1.5L SJBS-701 | 2,390 Tk |
| Kiam Rice Cooker 1.8L SJBS-702 | 2,580 Tk |
| Kiam Rice Cooker 2.8L SJBS-704 | 3,140 TK |
| Kiam Rice Cooker 2.8L DJB-204 | 2,950 TK |
| Kiam Rice Cooker 3.2L SFB-5705 | 4,299 TK |
| Kiam Rice Cooker 1.8L SJBS-802 | 2,770 TK |
| Kiam Rice Cooker 2.8L SJBS-804 | 3,390 TK |
| Kiam Rice Cooker 3.2L SJBS-8705 | 5,250 TK |
কিয়াম রাইস কুকার দিয়ে ভাত রান্না করা হলে ভাত পাতিলে লেগে যায় না সেজন্য এটি অনেক ভালো একটি রাইস কুকার। এবং এই রাইস কুকারে এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়ে থাকে তো সেটা আপনারা দেখে নিবেন।
ওয়ালটন রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ওয়ালটন রাইস কুকারের দাম সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি রাইস কুকারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে নিচে ওয়ালটন রাইস কুকারের মডেল ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দাম দেওয়া হলো:
| নাম/মডেল/লিটার | দাম |
|---|---|
| Walton Rice Cooker WRC-NEXUS1.8L | 2,990 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-Nexus-Deluxe 3.0L | 3,695 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-NEXUS3.0L | 3,590 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-SGAE 1.8L | 2,920 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-SGAE 2.2L | 3,320 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-SGAE 2.8L | 3,670 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-Star-Deluxe 3.0L | 3,790 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-GLORIA-DELUXE 2.2L | 3,490 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-CANDY 3.0L | 5,390 Tk |
| Walton Rice Cooker WRC-PAPE 2.8L | 4,990 Tk |
ওয়ালটনের প্রতিটি রাইস কুকারের বিভিন্ন পার্টস এর ওয়ারেন্টি ১ বছর এবং রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি ৩ মাস। এবং কেনার পরে ১ বছরের মধ্যে যেকোনো সমস্যা হলে তাদের থেকে সার্ভিস পাবেন।
ভিশন রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ভিশন রাইস কুকার এর প্রাইজ ধারণ ক্ষমতা (লিটার) এবং মডেল অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪২০০ টাকা পর্যন্ত। নিচে ভিশন রাইস কুকার এর প্রাইস লিস্ট দেওয়া হলো:
| নাম/মডেল/লিটার | দাম |
|---|---|
| Vision Rice Cooker 1.8L REL-40-06 SS Red | 2,541 Tk |
| Vision Rice Cooker 1.8L -40-06 SS Blue | 2,541 Tk |
| Vision Rice Cooker 2.8L REL-Prime Red | 3,190 Tk |
| Vision Rice Cooker 3.0L 100 SS Red | 3,119 Tk |
| Vision Rice Cooker 3.0L REL-50-05 SS Blue | 3,119 Tk |
| Vision Rice Cooker 1.8L REL-40-06 SS-Coffee | 2,990 Tk |
| Vision Rice Cooker 3.0L REL-50-05 SS Coffee | 3,119 Tk |
| Vision Stainless Still Smart Rice Cooker 3.0L | 4,207 Tk |
| Vision Stainless Steel Rice Cooker 50-05 3.0L | 3,119 Tk |
ভিশন রাইস কুকার অনলাইন অথবা অফলাইন যেকোন জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন তবে অবশ্যই দেখে নিবেন ১ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি রয়েছে কিনা। এবং ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
মিয়াকো রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে মিয়াকো ব্যান্ডের বিভিন্ন দামের রাইস কুকার রয়েছে। রাইস কুকারের ধারণ ক্ষমতা (লিটার) অনুযায়ী ২৬০০ টাকা থেকে ৬৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। নিচে কিছু মিয়াকো রাইস কুকারের দাম দেওয়া হলো:
| নাম/মডেল/লিটার | দাম |
|---|---|
| Miyako Rice Cooker 1.2L MRC-512 YLD | 2,660 Tk |
| Miyako Rice Cooker 3.0L MRC-300-JPN | 4,099 Tk |
| Miyako Rice Cooker 3.2L MRC-320-JPN | 4,199 Tk |
| Miyako Rice Cooker 2.8L ASL1280-KND | 3,780 Tk |
| Miyako Rice Cooker 2.8L ASL-28-HC | 5,000 Tk |
| Miyako Rice Cooker 6.0L EPC-A612 | 6,699 Tk |
| Miyako Rice Cooker 1.2L MCM-P2512 | 2,800 Tk |
মিনি রাইস কুকার দাম – মিনি রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে মিনি রাইস কুকার এর দাম সাধারণত ১০০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা এর মধ্যে হয়ে থাকে। মূলত ব্র্যান্ড, কোয়ালিটি এবং কত লিটার সেটার উপর দাম নির্ভর করে থাকে। তবে যেহেতু মিনি রাইস কুকার এর ধারণক্ষমতা কম হয়ে থাকে সেজন্য দামও কম হয়ে থাকে। কম টাকার মধ্যে মিনি রাইস কুকার নিতে পারবেন।
ভালো রাইস কুকার চেনার উপায় – রাইস কুকার কোনটা ভালো
একটি ভালো মানের রাইস কুকার শুধুমাত্র ভাত রান্না করার জন্যই না বরং রান্নার সময় বাঁচানো এবং রান্না করা খাবারের পুষ্টিমান বজায় রাখার জন্য জরুরী। ভালো রাইস কুকার চেনার কার্যকর উপায় গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- স্টেইনলেস স্টিল রাইস কুকার মানসম্মত এবং এটি ব্যবহার করা অনেকটা নিরাপদ।
- ননস্টিক কোটিং রয়েছে এরকম রাইস কুকার ভালো এগুলোতে ভাত লেগে যায় না।
- ইন্ডাকশন হিটিং যুক্ত রাইস কুকার ভালো খুব খুব তাড়াতাড়ি সব দিকের ভাত সেদ্ধ হয়।
- ভাত রান্না হওয়ার পরে ভাপ অনেক সময় ধরে আটকে রাখে এবং ভাত গরম রাখে এরকম রাইস কুকার ভালো।
- রান্না করা হয়ে গেলে অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যায় এমন রাইস কুকার ভালো।
- রাইস কুকার বাছাই করার জন্য একটি ভাল মনের ব্র্যান্ড নির্বাচন করতে হবে।
এছাড়াও রাইস কুকার কেনার আগে অবশ্যই কত বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে সেটা জেনে নিতে হবে এবং সবশেষে আপনার পরিবারের লোকজনের সংখ্যা অনুযায়ী সেরকম আকার বা ক্যাপাসিটির রাইস কুকার নির্বাচন করতে হবে।
রাইস কুকার ব্যবহারের নিয়ম
শুধুমাত্র রাইস কুকার কিনলেই হবেনা এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানতে হবে। এটি যেহুতু বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো হয় তাই সঠিক নিয়মে ব্যবহার না করলে যেকোনো ক্ষতি হতে পারে। জেনে নিন রাইস কুকার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম।
সঠিক মাপে পানি ও চাল নিতে হবে
রাইস কুকারের সাথে চাল মাপার জন্য কাপ থাকে সেই কাপ দিয়ে যে পরিমাণ চাল দিতে চান তা মেপে দিবেন।চালগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে তারপর চাল অনুযায়ী পানি দেওয়ার জন্য পটের ভিতর পানির লেভেলের চিহ্ন দেওয়া থাকে সেই অনুযায়ী পানি দিতে হবে।
ভেতরে থাকা পটের বাইরের অংশ মোছা
রাইস কুকারের ভেতর থাকা ইনার পটের মধ্যে পানি দেওয়ার পর সেই পটের বাহিরের অংশে পানি লেগে থাকতে পারে সেজন্য ভালোভাবে সেগুলো পানি মুছে ফেলতে হবে। কারণ বাহিরে পানি থাকলে হিটিং প্লেটের সমস্যা হতে পারে বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে পারে।
ইনার পাত্র সঠিকভাবে বসানো
ইনার পট কুকারের মধ্যে বসানোর পর সেটা সঠিক ভাবে ভিড়ানোর জন্য হালকা ডানে বামে ঘুরিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। এতে করে পাত্রটি হিটিং প্লেটের সাথে ভালোভাবে সেট হয়ে যাবে এবং হিট সমান ভাবে লাগবে।
সুইচ অন করতে হবে
সুইচ অন করার আগে ঢাকনা ভালোভাবে আটকে দিতে হবে। এবার সুইচ অন করে দিবেন রান্না শেষ হলে অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে।
রান্না শেষ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ঢাকনা না খুলে ৫-১০ মিনিট পরে খুলবেন এতে ভাত পাত্রের নিচে লেগে যাবেনা এবং ঝরঝরে হবে। এভাবেই নিয়ম মেনে রাইস কুকার ব্যবহার করতে হবে।
লেখকের মন্তব্য
আশা করছি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা অনেকগুলো রাইস কুকারের দাম জানতে পেরেছেন তবে এগুলো রাইস কুকারের দাম অনেক সময় কম বেশি হয়ে থাকে তাই কেনার আগে আরো ভালোভাবে জেনে যাচাই-বাছাই করে নিবেন।
আর এইগুলো সম্পর্কে যদি আপনাদের আরো কোনো কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্টে জানাতে পারেন। এবং এইরকম আরো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট বা ফলো করতে পারেন।







